বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস - Read Mode
Browse questions and answers at your own pace
Explanation
স্যার ফ্রেডরিক জন বারোজ (Sir Frederick John Burrows) ছিলেন অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ গভর্নর। তিনি ১৯৪৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ভারত বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
Explanation
ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬৩-১৮০০) ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রথম সংগঠিত বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ মূলত বাংলা ও বিহারে সংঘটিত হয়েছিল। ফকির মজনু শাহ এবং ভবানী পাঠক ছিলেন এই বিদ্রোহের প্রধান নেতা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি এই বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
Explanation
ফকির আন্দোলন অষ্টদশ শতাব্দীতে (১৮শ শতাব্দী) সংঘটিত হয়েছিল। এই আন্দোলন ১৭৬৩ সালে শুরু হয় এবং প্রায় ১৮০০ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে। এটি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলার কৃষক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটি প্রতিরোধ আন্দোলন।
Explanation
মজনু শাহ ছিলেন ফকির আন্দোলনের প্রধান নেতা। তিনি একজন সুফি সাধক ছিলেন এবং ১৭৬৩ থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে হাজার হাজার ফকির ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল। ১৭৮৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
Explanation
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের শাসনভার লাভ করে। মীর কাসিম ব্রিটিশদের সাথে একটি চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম, বর্ধমান এবং মেদিনীপুর জেলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রদান করেন। এটি ছিল বাংলায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
Explanation
তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১) বাঁশের কেল্লাখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে পরিচিত। তার প্রকৃত নাম ছিল সৈয়দ মীর নিসার আলী। ১৮৩১ সালে তিনি নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশ দিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এই বাঁশের কেল্লা থেকেই তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
Explanation
তিতুমীরের দুর্গের মূল উপাদান ছিল বাঁশ। ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়ায় তিনি এই বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। যদিও বাঁশ দিয়ে তৈরি, এই দুর্গটি বেশ মজবুত ছিল এবং ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছিল। এই কারণেই তিতুমীর 'বাঁশের কেল্লার বীর' নামে পরিচিত।
Explanation
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর। হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৮১৮ সালে এই আন্দোলন শুরু করেন এবং ফরিদপুর জেলা ছিল এর মূল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। পরবর্তীতে এই আন্দোলন ঢাকা, বাকেরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, এবং সিলেট অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
Explanation
তিতুমীরের বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা নারিকেলবাড়িয়ায় অবস্থিত ছিল। এটি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত। ১৮৩১ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি এখানে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন এবং ১৯ নভেম্বর ব্রিটিশ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে শহীদ হন।
Explanation
হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০) ছিলেন বাংলার ফরায়েজি আন্দোলনের উদ্যোক্তা। তিনি ১৮১৮ সালে এই আন্দোলন শুরু করেন। 'ফরায়েজ' শব্দটি আরবি 'ফরজ' থেকে এসেছে, যার অর্থ ইসলামের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। এই আন্দোলন ছিল একাধারে ধর্মীয় সংস্কার এবং কৃষক অধিকার আদায়ের আন্দোলন।